মানবিকতার দাবী
গায়ের জোড়ে একদল লোক এসে এক বা একাধিক নিরীহ পরিবারের ঘরে বোমা মেরে অথবা আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করে উদ্বাস্তু করে দেওয়াটা এই ২০২৩ সালে অসহ্য লাগছে। আগেও লাগতো। আজকাল আরো বাড়াবাড়ি লাগে। এর ওপর শিশুদের ওপর অত্যাচার, মেয়েদের ধর্ষণ করা, জল, খাবার আর ওষুধের সরবরাহ বন্দুকের নল দেখিয়ে ইচ্ছে মতো বন্ধ করে সাধারণ মানুষ আর শিশুদের উপর অকথ্য অত্যাচার করা ইত্যাদির কথা ভাবলে মাথা আরো ভোঁ-ভোঁ করে। আর কতোদিন আমরা অসভ্য থেকে এগুলো মেনে নেবো? সারা পৃথিবীতে একযোগে এর প্রতিবাদ হওয়ার সময় এসেছে। আমি যখন আমার সমাজের নিয়ম মেনে, আইন মেনে, কারোর কোন ক্ষতি করার চেষ্টা পর্যন্ত না করে একটু সুস্থ ভাবে বাঁচার চেষ্টা করছি, তখন আমার উপর অকারণে শক্তি প্রয়োগ করে, আমাকে উৎখাত করে আমাকে কেন সর্বস্বান্ত করা হবে? প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঘর-বাড়ি হারানোটা অন্য প্রসঙ্গ। যদিও আজকাল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণও অনেক ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি শোষণ হতে পারে।
বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশভিখারি হয়ে যাওয়ার যন্ত্রনা যে কি মারাত্বক সেটা আমরা বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে জানি। দেশ মানে তো কেবল হোটেল অথবা রিসোর্টের ঘরের মতো একটা বাসস্থান নয়। মধুময় পালের ভাষায় -
দেশ মানে তো কেবল কাঁটাতার নয়, ভৌগোলিক সীমানা ছড়িয়ে একটা জাগ্রত স্মৃতি— গাছ-মানুষ-জল-মাটি মানুষের মনে থেকে যায়। সেটা মাটি হারানো একটা মানুষের সারাজীবনের খোঁজ। দেশ হারানো মানে একটা বেদনা— যেন মাতৃ-পিতৃবিয়োগ। যেন দেশবিয়োগ।
মধুময় পাল ওনার ‘দেশভাগ: বিনাশ ও বিনির্মাণ’ বইয়ের ভূমিকায় দেশভিখারি শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন। শঙ্খ ঘোষ সেটা অনুমোদন করেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া, দেশবিখারী হয়ে যাওয়ার পেছনে মানুষের জন্মস্থান, ধর্ম, রাজনৈতিক চেতনা ইত্যাদি কোন কারণই বৈধ হতে পারে না।
মানবিকতার বোধ সার্বিক ভাবে জাগ্রত হয়ে আমাদের চেতনার মধ্যে গেঁথে যেতে এখনো আমাদের অনেক অনেক যুগ লাগবে। এই প্রসঙ্গে জানাই যে মানবিকতার বোধ কিছুটা বুঝতে গেলে ভালোবাসার শহরের মতো সিনেমা দেখাটা খুব জরুরী।